৩৩-৩৬ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ আমার অস্তিত্বের উপর, আমার সীমাহীন ক্ষমতার উপর এবং মৃতকে জীবিত করার উপর এটাও একটি নিদর্শন যে, মৃত যমীন, যা শুষ্ক অবস্থায় পড়ে রয়েছে যাতে কোন সজীবতা ও শ্যামলতা নেই, যাতে তৃণ-লতা প্রভৃতি কিছুই জন্মে না, তাতে যখন আকাশ হতে বৃষ্টিপাত হয় তখন তা নবজীবন লাভ করে এবং সবুজ-শ্যামল হয়ে ওঠে। চতুর্দিকে ঘাস-পাতা গজিয়ে ওঠে এবং নানা প্রকারের ফল-ফুল দৃষ্টি গোচর হয়। তাই মহান আল্লাহ্ বলেনঃ আমি ঐ মৃত যমীনকে জীবিত করে তুলি এবং তাতে উৎপন্ন করি বিভিন্ন প্রকারের শস্য, যার কিছু কিছু তোমরা নিজেরা খাও এবং কিছু কিছু তোমাদের গৃহপালিত পশু খেয়ে থাকে। ঐ যমীনে আমি তৈরী করি খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান এবং তাতে প্রবাহিত করি নদ-নদী, যা তোমাদের বাগান ও শস্যক্ষেত্রকে পানিপূর্ণ ও সবুজ-শ্যামল করে থাকে। এটা এই কারণে যে, যাতে দুনিয়াবাসী এর ফলমূল হতে ভক্ষণ করতে পারে, শস্যক্ষেত্র ও উদ্যান হতে উপকার লাভ করতে পারে এবং বিভিন্ন প্রয়োজন পুরো করতে পারে। এগুলো আল্লাহর রহমত ও তার ক্ষমতাবলে পয়দা হচ্ছে, অন্য কারো ক্ষমতাবলে নয়। মানুষের হস্ত এগুলো সৃষ্টি করেনি। মানুষের না আছে এগুলো উৎপন্ন করার শক্তি, না আছে। এগুলো রক্ষা করার ক্ষমতা এবং না আছে এগুলো পাকাবার ও তৈরীর করার অধিকার। এটা শুধু আল্লাহ তা'আলারই কাজ এবং তারই মেহেরবানী। আর তাঁর অনুগ্রহের সাথে সাথে এটা তার ক্ষমতার নিদর্শনও বটে। সুতরাং মানুষের কি হয়েছে যে, তারা তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে না? এবং তাঁর অসংখ্য নিয়ামতরাশি তাদের কাছে থাকা সত্ত্বেও তাঁর অনুগ্রহ স্বীকার করছে না? একটি ভাবার্থ এও বর্ণনা করা হয়েছে যে, বাগানের ফল তারা খায় এবং নিজের হাতে বপনকৃত জিনিস তারা পেয়ে থাকে। যেমন হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ)-এর কিরআতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ তাদের হাত যে কাজ করেছে তা হতে (তারা ভক্ষণ করে থাকে)।পবিত্র ও মহান তিনি, যিনি উদ্ভিদ, মানুষ এবং তারা যাদেরকে জানে না তাদের প্রত্যেককে সৃষ্টি করেছেন জোড়া জোড়া করে। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ অর্থাৎ “প্রত্যেক জিনিসকে আমি জোড়া জোড়া করে সৃষ্টি করেছি যাতে তোমরা উপদেশ লাভ কর।”(৫১:৪৯)