২০-২১ নং আয়াতের তাফসীরমহান আল্লাহ বলেনঃ যদি আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহ, দয়া, স্নেহ ও করুণা না। হতো তবে ঐ সময় অন্য কিছু ঘটে যেতো। কিন্তু আল্লাহ পাক তাওবাকারীদের তাওবা কবুল করে নিয়েছেন ও পবিত্রতা লাভ করতে ইচ্ছুকদেরকে তিনি শরীয়তের বিধান মতে শাস্তি প্রদানের পর পবিত্র করেছেন।মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ হে মুমিনগণ! তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, তার কথামত চলো না। সে তো তোমাদেরকে অশ্লীলতা ও মন্দ কার্যের নির্দেশ দিয়ে থাকে। সুতরাং তার অনুসরণ করা থেকে বেঁচে থাকা তোমাদের উচিত। তার কাজ কর্ম এবং কুমন্ত্রণা হতে দূরে থাকা তোমাদের কর্তব্য। আল্লাহর অবাধ্যতায় শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ প্রকাশ পায়। একটি লোক হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ)-কে বলেঃ “আমি অমুক খাদ্য নিজের উপর হারাম করার কসম করেছি।” তখন হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) তাকে বলেনঃ “এটা শয়তানী কুমন্ত্রণা। তুমি তোমার কসমের কাফফারা আদায় কর এবং ঐ খাদ্য খেয়ে নাও।”হযরত সুলাইমান তাইমী (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত আবু রাফে’ (রঃ) বলেন, আমার স্ত্রী একদা আমার উপর রাগান্বিত হয়ে বলেঃ “একদিন আমি ইয়াহূদী নারী এবং একদিন খৃষ্টান নারী, আর আমার সমস্ত গোলাম আযাদ যদি তুমি তোমার স্ত্রীকে (আমাকে) তালাক না দাও।” আমি তখন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ)-এর কাছে এসে এ সম্পর্কে ফতওয়া জিজ্ঞেস করি। হযরত ইবনে উমার (রাঃ) উত্তরে বলেনঃ “এটা শয়তানের কুমন্ত্রণা।” যয়নব বিনতে উম্মে সালমা (রাঃ)-ও এ কথা বলেন, যিনি ঐ সময় মদীনার মধ্যে শরীয়তের জ্ঞান সবচেয়ে বেশী রাখতেন। তারপর আমি হযরত আসেম ইবনে উমার (রাঃ)-এর নিকট আসি। তিনিও অনুরূপ কথাই বলেন।এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকলে তোমাদের কেউই কখনো শিরক ও কুফরী হতে পবিত্র হতে পারতে না। এটা মহান প্রতিপালকের অনুগ্রহ যে, তিনি তোমাদেরকে তাওবা করার তাওফীক দিয়েছেন এবং তোমাদের প্রতি দয়া পরবশ হয়ে তোমাদের তাওবা কবূল করতঃ তোমাদেরকে গুনাহ থেকে পাক-সাফ করে দিয়েছেন। আল্লাহ যাকে চান পবিত্র করে থাকেন এবং যাকে চান ধ্বংসের গর্তে নিক্ষেপ করেন। কে সঠিক পথের পথিক এবং কে পথভ্রষ্ট সবই তাঁর গোচরে রয়েছে। তিনি সর্বশ্রোতা এবং সর্বজ্ঞ।