১৭৬ নং আয়াতের তাফসীর:
শানে নুযূল:
জাবের (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা আমি অসুস্থ হলাম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট আগমন করলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আমার বোনদের জন্য এক তৃতীয়াংশ সম্পদ অসীয়ত করব? তিনি বললেন: (আরো একটু বৃদ্ধি করে তাদের প্রতি) ইহসান কর, আমি বললাম: তাহলে অর্ধেক দেই? তিনি বললেন: (আরো একটু বৃদ্ধি করে তাদের প্রতি) ইহসান কর। জাবের (রাঃ) বলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বের হলেন অতঃপর আমার কাছে আগমন করে বললেন, আমার মনে হয় এ অসুখে তুমি মারা যাবে না। আল্লাহ তা‘আলা আয়াত নাযিল করে তোমার বোনদের অংশ বর্ণনা করে দিয়েছেন আর তা হল দুই তৃতীয়াংশ। এরপর জাবের (রাঃ) বলতেন:
(يَسْتَفْتُوْنَكَ قُلِ اللّٰهُ....)
এ আয়াতটি আমার ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়। (আবূ দাঊদ হা: ২৮৮৭, সহীহ)
এ আয়াতকে আয়াতুস সাইফ বা গ্রীস্মকালের আয়াত বলা হয় । কারণ তা গ্রীস্মকালে নাযিল হয়েছে। (মুসনাদ আহমাদ ১/২৬, সহীহ)
كَلَالَة ‘কালালাহ’ বলা হয় ঐ মৃত ব্যক্তিকে যার পিতা-মাতা নেই এবং সন্তান নেই। কেউ কেউ বলেছেন, যে মৃত ব্যক্তির কোন পুত্র নেই। পুত্র বলতে পুত্র ও পৌত্র উভয়কে বলা হয়। আর বোন বলতে সহোদর বোন ও বৈমাত্রেয় উভয় বোনকে বলা হয়।
যদি কোন ব্যক্তি মারা যায় আর যদি তার কোন সন্তান না থাকে কিন্তু বোন থাকে তাহলে বোন একাই সমস্ত সম্পদের অর্ধেক অংশ পাবে। আর দু’জন হলে দুই তৃতীয়াংশ পাবে। অনুরূপভাবে বোন মারা গেলে সে ভাই ওয়ারিশদার হবে তবে শর্ত হল যদি বোনের কোন সন্তান না থাকে। এবং যদি পিতা না থাকে। যেহেতু ভাইয়ের চেয়ে পিতা সম্পর্কের দিক দিয়ে নিকটতম। সুতরাং পিতার বর্তমানে ভাই উত্তরাধিকারী হবে না।
আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. কোন বিষয় না জানা থাকলে জ্ঞানীদের নিকট জিজ্ঞাসা করে জেনে নেয়া উচিত।
২. ইসলামই সর্বপ্রথম নারীদেরকে উত্তরাধিকারের অংশ প্রদান করেছে।
৩. আল্লাহ তা‘আলা বিধি-বিধান প্রদান করেছেন যাতে মানুষ সঠিক পথ পায়।