النبي اولى بالمومنين من انفسهم وازواجه امهاتهم واولو الارحام بعضهم اولى ببعض في كتاب الله من المومنين والمهاجرين الا ان تفعلوا الى اوليايكم معروفا كان ذالك في الكتاب مسطورا ٦
ٱلنَّبِىُّ أَوْلَىٰ بِٱلْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنفُسِهِمْ ۖ وَأَزْوَٰجُهُۥٓ أُمَّهَـٰتُهُمْ ۗ وَأُو۟لُوا۟ ٱلْأَرْحَامِ بَعْضُهُمْ أَوْلَىٰ بِبَعْضٍۢ فِى كِتَـٰبِ ٱللَّهِ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ وَٱلْمُهَـٰجِرِينَ إِلَّآ أَن تَفْعَلُوٓا۟ إِلَىٰٓ أَوْلِيَآئِكُم مَّعْرُوفًۭا ۚ كَانَ ذَٰلِكَ فِى ٱلْكِتَـٰبِ مَسْطُورًۭا ٦
اَلنَّبِیُّ
اَوْلٰی
بِالْمُؤْمِنِیْنَ
مِنْ
اَنْفُسِهِمْ
وَاَزْوَاجُهٗۤ
اُمَّهٰتُهُمْ ؕ
وَاُولُوا
الْاَرْحَامِ
بَعْضُهُمْ
اَوْلٰی
بِبَعْضٍ
فِیْ
كِتٰبِ
اللّٰهِ
مِنَ
الْمُؤْمِنِیْنَ
وَالْمُهٰجِرِیْنَ
اِلَّاۤ
اَنْ
تَفْعَلُوْۤا
اِلٰۤی
اَوْلِیٰٓىِٕكُمْ
مَّعْرُوْفًا ؕ
كَانَ
ذٰلِكَ
فِی
الْكِتٰبِ
مَسْطُوْرًا
۟
3

৬ নং আয়াতের তাফসীর:

এ আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা ঘোষণা দিচ্ছেন যে, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মু’মিনদের নিজেদের অপেক্ষা তাদের নিকট অধিক ঘনিষ্ঠতর। তাদের নিজেদের চেয়ে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের জন্য অধিক কল্যাণকামী, এবং তাদের প্রতি স্নেহপরায়ণ। মানুষ নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়, আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: আমার ও আমার উম্মাতের দৃষ্টান্ত হল ঐ ব্যক্তির ন্যায়-যে আগুন প্রজ্জ্বলিত করল, ফলে কীট-পতঙ্গ তাতে এসে পড়তে লাগল, তোমরাও আগুনে পড়তেছিলে, আর আমি তোমাদেরকে বাধা দিচ্ছিলাম। (সহীহ বুখারী হা: ৩৪২৭, সহীহ মুসলিম হা: ২২৮৪) সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কোন বিষয়ে তাদেরকে যে সিদ্ধান্ত দেবেন তাই তাদেরকে মনে নিতে হবে। কোন প্রকার দ্বিমত পোষণ করা যাবে না। আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

(فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُوْنَ حَتّٰي يُحَكِّمُوْكَ فِيْمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوْا فِيْٓ أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوْا تَسْلِيْمًا)‏

“কিন্তু না, তোমার প্রতিপালকের শপথ! তারা মু’মিন হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের মধ্যে বিবদমান বিষয়ের বিচারভার তোমার ওপর অর্পণ না করে; অতঃপর তোমার সিদ্ধান্ত সম্বন্ধে তাদের মনে কোন দ্বিধা থাকে এবং সম্পূর্ণরূপে তা মেনে না নেয়।” (সূরা নিসা ৪:৬৫)

হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: ঐ সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে। তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মু’মিন হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তার নিকট তার নিজের থেকে, তার সম্পদ থেকে, তার সন্তান-সন্ততি থেকে এবং সমস্ত জিনিস থেকে অধিক প্রিয় না হই। (সহীহ বুখারী হা: ১৫)

উমার (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: হে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আল্লাহ তা‘আলার শপথ আপনি আমার নিকট সকল জিনিস থেকে বেশি প্রিয়। কিন্তু নিজের জীবনের চেয়ে বেশি নন। তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: হে উমার! তোমরা জীবন থেকেও আমাকে বেশি না ভালবাসা পর্যন্ত তুমি মু’মিন হতে পারবে ন। তখন উমার (রাঃ) বললেন: হে আল্লাহ তা‘আলার রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আপনি আমার নিকট সকল জিনিস থেকে প্রিয় এমনকি নিজের জীবন থেকেও। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: এখন তুমি মু’মিন হয়েছো। (সহীহ বুখারী হা: ৬৬৩২)

ইমাম বুখারী (رحمه الله) এ আয়াতের তাফসীরে বর্ণনা করেন: আবূ হুরাইরাহ (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: দুনিয়া ও পরকালে সমস্ত মানুষের চেয়ে মু’মিনের জন্য আমিই ঘনিষ্ঠতম। তোমরা ইচ্ছা করলে:

(اَلنَّبِيُّ أَوْلٰي بِالْمُؤْمِنِيْنَ) এ আয়াতটি পড়তে পার। সুতরাং কোন মু’মিন ব্যক্তি যদি সম্পদ রেখে মৃত্যু বরণ করে তাহলে তার হকদার হবে তার উত্তরাধিকারীরা। আর যদি কোন মু’মিন ব্যক্তি ঋণ অথবা অসহায় সন্তানাদি রেখে মারা যায় তাহলে সে যেন আমার কাছেই আসে, আমি তার অভিভাবক। (সহীহ বুখারী হা: ৪৭৮১, সহীহ মুসলিম হা: ১৬১৯)

এরপর আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রীদের বিধান দিয়ে বলেন, নাবীপত্মীগণ মু’মিনদের মাতৃতুল্য। আর এ মাতৃতুল্য হল হুরমাত ও সম্মানের ক্ষেত্রে; জন্মদাতা মাতা হিসেবে নয়, তাদেরকে বিবাহ করা হারাম এবং তাদের সাথে পর্দা করা ওয়াজিব যেমন অত্র সূরার ৫৩ নং আয়াতে বলা হয়েছে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যেতে পারে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মু’মিনদের পিতৃতুল্য। যেমন হাদীসে এসেছে: আবূ হুরাইরাহ (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: আমি তোমাদের জন্য তোমাদের পিতাদের স্থলাভিষিক্ত আমি তোমাদেরকে শিক্ষা দিচ্ছি যে, তোমাদের কেউ পায়খানায় গেলে কিবলার দিকে যেন মুখ এবং পিঠ না করে বসে। ডান হাতে যেন ঢিলা ব্যবহার না করে এবং ডান হাতে যেন ইসতিনজাও না করে। (আবূ দাঊদ হা: ৮, নাসায়ী হা: ৪০, ইবনু মাযাহ হা: ৩১৩, সহীহ)

তবে এ পিতা ধর্মীয় দিক দিয়ে পিতা, জন্মদাতা হিসেবে নয়। কেননা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কোন পুরুষের পিতা নন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

(مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَآ أَحَدٍ مِّنْ رِّجَالِكُمْ وَلٰكِنْ رَّسُوْلَ اللّٰهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّيْنَ ط وَكَانَ اللّٰهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيْمًا)

“মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাদের মধ্যকার কোন পুরুষের পিতা নয়, বরং তিনি আল্লহর রাসূল এবং সর্বশেষ নাবী। আল্লাহ সকল বিষয়ে সর্বজ্ঞ।” (সূরা আহযাব ৩৩:৪০)

সুতরাং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ধর্মীয় দিক দিয়ে মু’মিনদের পিতা এবং তাঁর স্ত্রীগণ হলেন মাতা। তারা প্রকৃত জন্মদাতা পিতা-মাতা নন। তাই তাদের কন্যাদেরকে বিবাহ করা বৈধ।

(وَأُولُوا الْأَرْحَامِ)

এখানে মূলত ইসলামের প্রথম যুগে যে বিধান কার্যকর ছিল সেদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, মুহাজিরগণ কোন প্রকার বংশীয় সম্পর্ক ব্যতিরেকেই আনসারদের মৃত্যুর পর তাদের সম্পত্তির ওয়ারিশ হত। আর এদিক দিয়ে তারা ছিল একে অপরের খুবই নিকটাত্মীয়। কিন্তু পরবর্তীতে মিরাসের আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর এ বিধান বাতিল হয়ে যায়। তবে একটি পথ খোলা থাকে, তা হল কেউ যদি কাউকে সাহায্য, অনুগ্রহ বা সহযোগিতা, সদাচরণবশত কিছু দিতে চায় তাহলে অসিয়তের মাধ্যমে দিতে পারবে। এ সম্পর্কে সূরা আনফালের শেষ আয়াতেও আলোচনা করা হয়েছে।

আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:

১. সকল জিনিস থেকে এমনকি নিজের জীবন থেকেও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বেশি ভালবাসতে হবে। অন্যথায় মু’মিন হওয়া যাবে না। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ হলো তাঁর সুন্নাতের অনুসরণ করা।

২. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রীদেরকে মায়ের মত সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।

৪. কেউ যদি কাউকে সাহায্য করণার্থে তার সম্পত্তি থেকে কিছু দিতে চায় তাহলে সেক্ষেত্রে ওয়ারিশ ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে অসিয়ত করতে পারবে। কিন্তু ওয়ারীশদের ক্ষেত্রে অসিয়ত গ্রহণ যোগ্য হবে না।

৫. একজন মু’মিন ব্যক্তি অন্য মু’মিনকে নিজের নিকটাত্মীয়দের মত এমনকি নিজের ভাইয়ের মত মনে করতে হবে।