আল্লাহ তা'আলা বলেন, যে মুশরিকদের সাথে নির্দিষ্ট মেয়াদে তোমাদের চুক্তি হয়েছে তারা যদি তাদের কসম ভেঙ্গে দিয়ে ওয়াদা ও চুক্তি ভঙ্গ করে এবং তোমাদের ধর্মের প্রতি দোষারোপ করে তবে তোমরা তাদের মাথা ভেঙ্গে দাও। এ জন্যেই আলেমগণ বলেছেন যে, যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে গালি দেবে বা দ্বীনের উপর দোষারোপ করবে কিংবা ঘৃণার সাথে এর উল্লেখ করবে তাকে হত্যা করে দিতে হবে।তাদের শপথের কোনই মূল্য নেই। তাদেরকে কুফরী, শিরক ও বিরুদ্ধাচরণ হতে ফিরিয়ে আনার এটাই পন্থা। কাতাদা (রঃ) প্রমুখ মুরুব্বীগণ বলেন যে, কুফরীর অগ্রনায়ক হচ্ছে আবু জেহেল, উত্ব, শায়বা, উমাইয়া ইবনে খালফ প্রভৃতি ব্যক্তিবর্গ। একদা সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাঃ) খারেজীদের একটি লোকের পার্শ্ব দিয়ে গমন করেন। ঐ খারেজী সা'দ (রাঃ)-এর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেঃ “ইনি হচ্ছেন কুফরীর অগ্রনায়ক।” তখন সা'দ (রাঃ) বলেনঃ “তুমি মিথ্যা বলছো। আমি বরং কুফরীর অগ্রনায়কদেরকে হত্যা করেছি।” হুযাইফা (রাঃ) বলেন যে, এর পরে এই আয়াতওয়ালাদেরকে হত্যা করা হয়নি। আলী (রাঃ) হতেও এরূপই বর্ণিত আছে। সঠিক কথা এই যে, শানে নুযূল হিসেবে এই আয়াত দ্বারা মুশরিক কুরায়েশ উদ্দেশ্য হলেও আয়াতটি ‘আম’ বা সাধারণ। হুকুমের দিক দিয়ে তারা ও অন্যান্য সবাই এর অন্তর্ভুক্ত। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী। আবু বকর (রাঃ) সিরিয়া অভিমুকে সেনাবাহিনী প্রেরণ করার সময় তাদেরকে বলেনঃ “তোমরা তথায় এমন কতকগুলো লোককে দেখতে পাবে যাদের মাথা কামানো রয়েছে। তোমরা ঐ শয়তানের দলকে তরবারী দ্বারা হত্যা করে ফেলবে। আল্লাহর কসম! তাদের একজন লোককে হত্যা করা অন্য সত্তরজন লোককে হত্যা করা অপেক্ষা আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়। কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “তোমরা কুফরের অগ্রনায়কদেরকে হত্যা করে দাও।” (এটা ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)