সুরইয়ানী ভাষায় হযরত শুআইব (আ)-এর প্রকৃত নাম ছিল ইয়াসরূন। মাদিয়ান শব্দটি গোত্রের উপরেও প্রয়োগ করা হতো এবং শহরের অর্থেও ব্যবহৃত হতো। এটা মাআন’ নামক জায়গার নিকটে অবস্থিত, যা হিজাযের পথে রয়েছে। (বর্তমানে মাআন’ হচ্ছে জর্দানের পূর্বে অবস্থিত একটি প্রসিদ্ধ শহর) যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “যখন সে (হযরত মূসা আঃ মাদিয়ানের ঝর্ণার কাছে পৌছালো তখন সেখানে এমন কতক লোককে পেলো যারা ঐ ঝর্ণা হতে পানি নিচ্ছিল। তারা হচ্ছে আসহাবুল আয়কাত, যার বর্ণনা ইনশাআল্লাহ অতিসত্বরই দেয়া হবে। ইরশাদ হচ্ছে- সে (শুআইব আঃ) বললো- হে আমার কওম! তোমরা আল্লাহরই ইবাদত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোন মা'বুদ নেই। সমস্ত রাসূলেরই তাবলীগ ও দাওয়াত এটাই ছিল। তোমাদের কাছে তোমাদের প্রভুর পক্ষ হতে সুস্পষ্ট দলীল এসে গেছে। হযরত শুআইব (আঃ) লোকদেরকে তাদের ব্যবহারিক জীবনের লেনদেন সম্পর্কে উপদেশ দিয়ে বলেনঃ তোমরা নিজেদের ওজন ও পরিমাপ ঠিক রাখবে, লোকদের ক্ষতি করবে না। অন্যদের মালে তোমরা খিয়ানত করবে না। পরিমাপ ও ওজনে চুরি করে কম করতঃ কাউকেও প্রতারিত করবে না। যেমন মহান আল্লাহ বলেন, “পরিমাপ ও ওজনে কমকারীদের জন্যে বড়ই ধ্বংস ও অকল্যাণ রয়েছে।” এটা হচ্ছে কঠিন ধমক ও হুমকি এবং ভীতি প্রদর্শন। এরপর আল্লাহ তা'আলা হযরত শুআইব (আঃ) সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন যে, তিনি স্বীয় কওমকে উপদেশ দিতেন। তাঁকে ‘খতীবুল আম্বিয়া বা নবীদের ভাষণদাতা বলা হতো। কেননা, তিনি অত্যন্ত বাকপটুতার সাথে ভাষণ দিতে পারতেন এবং জনগণকে অতি চমৎকার ভাষায় উপদেশ দিতেন।