আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ যে বেদুঈনরা আল্লাহর রাসূল (সঃ) ও সাহাবী (রাঃ)-এর সঙ্গে হুদায়বিয়ায় হাযির ছিল না, তারা যখন রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-কে এবং সাহাবীদেরকে (রাঃ) খায়বারের বিজয়ের পর যুদ্ধলব্ধ মাল নেয়ার জন্যে যেতে দেখবে তখন আশা পোষণ করবে যে, তাদেরকেও হয়তো সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হবে। বিপদের সময় তো তারা পিছনে সরে ছিল, কিন্তু সুখের সময় মুসলমানদের সঙ্গে যাওয়ার তারা আকাক্ষা করবে। এ জন্যেই আল্লাহ্ তা'আলা বলেন যে, তাদেরকে কখনোই যেন সঙ্গে নেয়া না হয়। যুদ্ধ যখন তারা করেনি। তখন গানীমাতের অংশ তারা কি করে পেতে পারে? যারা হুদায়বিয়ায় উপস্থিত ছিলেন তাঁদেরকেই আল্লাহ্ তা'আলা খায়বারের গানীমাতের ওয়াদা দিয়েছেন, তাদেরকে নয় যারা বিপদের সময় সরে থাকে, আর আরামের সময় হাযির থাকে।আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “তারা আল্লাহর কালাম পরিবর্তন করতে চায়। অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা তো আহলে হুদায়বিয়ার সাথে খায়বারের গানীমাতের ওয়াদা করেছেন, অথচ এই মুনাফিকরা চায় যে, হুদায়বিয়ায় হাযির না হয়েও তারা আল্লাহর ওয়াদাকৃত গানীমাত প্রাপ্ত হবে। হযরত ইবনে যায়েদ (রঃ) বলেন যে, এর দ্বারা আল্লাহর নিম্নের হুকুমকে বুঝানো হয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “(হে নবী সঃ)! যদি আল্লাহ তোমাকে তাদের মধ্যে কোন দলের দিকে ফিরিয়ে আনেন এবং তারা তোমার কাছে জিহাদের জন্যে বের হবার অনুমতি প্রার্থনা করে তবে তুমি তাদেরকে বলে দাও- তোমরা আমার সাথে কখনো বের হবে না এবং আমার সাথে থেকে কখনো শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধ করবে না, তোমরা তো প্রথমবার আমাদের হতে পিছনে সরে থাকাকেই পছন্দ করেছে, সুতরাং এখন তোমরা পিছনে অবস্থানকারীদের সাথেই বসে থাকো।” (৯:৮৩) কিন্তু এই উক্তির ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনার অবকাশ রয়েছে। কেননা, এটা হলো সূরায়ে বারাআতের আয়াত যা তাবূকের যুদ্ধের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়। আর তাবূকের যুদ্ধ হলো হুদায়বিয়ার সন্ধির বহু পরের ঘটনা। ইবনে জুরায়েজ (রঃ)-এর উক্তি এই যে, এর দ্বারা মুনাফিকদের মুসলমানদেরকেও তাদের সাথে জিহাদ হতে বিরত রাখাকেই বুঝানো হয়েছে।আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ হে নবী (সঃ)! তুমি তাদেরকে বলে দাও- তোমরা কিছুতেই আমাদের সঙ্গী হতে পারবে না। আল্লাহ্ পূর্বেই এরূপ ঘোষণা করেছেন।আল্লাহ পাক বলেন যে, তারা তখন বলবেঃ তোমরা তো আমাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করছো। তোমাদের উদ্দেশ্য হলো আমাদেরকে গানীমাতের অংশ দেয়া।আল্লাহ্ তা'আলা তাদের এ কথার জবাবে বলেনঃ প্রকৃতপক্ষে তাদের কোন বোধশক্তি নেই।