৭৪-৭৬ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা মুশরিকদের ঐ বাতিল আকীদাকে খণ্ডন করছেন যা তারা তাদের বাতিল মাবুদদের উপর রাখতো। তারা এই আকীদা বা বিশ্বাস রাখতো যে, আল্লাহ ছাড়া যাদের তারা ইবাদত করছে তারা তাদের সাহায্য করবে। তারা তাদের তকদীরে বরকত আনয়ন করবে এবং তাদেরকে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করাবে। আল্লাহ তাআলা বলেন যে, তাদের এসব মা’রূদ তাদেরকে সাহায্য করতে সক্ষম নয়। তাদেরকে সাহায্য করা তো দূরের কথা, তারা নিজেদেরই কোন সাহায্য করতে পারে না। এমন কি এই প্রতিমাগুলো তাদের শত্রুদের আক্রমণ হতে নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারে না। কেউ এসে যদি তাদেরকে ভেঙ্গে চুরে ফেলে দেয় তবুও তারা তার কোনই ক্ষতি করতে সক্ষম নয়। তারা তো কথা বলতেও পারে না। কোন বোধ শক্তিও তাদের নেই। এই প্রতিমাগুলো কিয়ামতের দিন একত্রিত জনগণের হিসাব গ্রহণের সময় নিজেদের উপাসকদের সামনে অত্যন্ত অসহায় ও নিরুপায় অবস্থায় বিদ্যমান থাকবে যাতে মুশরিকদের পুরোপুরি লাঞ্ছনা ও অপমান প্রকাশ পায়। আর তাদের উপর হুজ্জত পুরো হয়। হযরত কাতাদা (রঃ) বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছেঃ প্রতিমাগুলো তো তাদের কোন প্রকারেরই সাহায্য করতে পারে না, তবুও এই নির্বোধ মুশরিকরা তাদের সামনে এমনভাবে বিদ্যমান থাকছে যে, যেন তারা কোন জীবন্ত সেনাবাহিনী! অথচ এগুলো তাদের কোন উপকারও করতে পারে না এবং কোন বিপদাপদ দূর করতে সক্ষম নয়। কিন্তু এতদসত্ত্বেও এই মুশরিকরা তাদের নামে জীবন দিচ্ছে। তারা এগুলোর বিরুদ্ধে কোন কথা শুনতেও চায় না বরং ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে উঠছে। মহামহিমান্বিত আল্লাহ স্বীয় নবী (সঃ)-কে সান্ত্বনা দিয়ে বলেনঃ হে নবী (সঃ)! তাদের কথা তোমাকে যেন দুঃখ না দেয়। আমি তো জানি যা তারা গোপন করে এবং যা তারা ব্যক্ত করে। সময় আসছে। খুঁটিনাটিভাবে আমি তাদেরকে প্রতিফল প্রদান করবো।