১০৯-১১০ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা বলছেন যে, যারা মসজিদের ভিত্তি তাকওয়া ও আল্লাহর সন্তুষ্টির উপর স্থাপন করেছে, আর যারা মসজিদে যিরার ও মসজিদে কুফর। বানিয়েছে এবং মুমিনদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করার ইচ্ছা করেছে ও আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সঃ)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে ঐ মসজিদকে আশ্রয়স্থল করেছে তারা কখনো সমান হতে পারে না। ঐ লোকগুলো তো মসজিদে যিরারের ভিত্তি যেন একটি গহ্বরের কিনারার উপর স্থাপন করেছে, যা ধ্বসে পড়ার উপক্রম, অতঃপর তা তাকে নিয়ে জাহান্নামের আগুনে পতিত হয়েছে। যারা সীমালংঘন করে আল্লাহ তাদেরকে সুপথ প্রদর্শন করেন না। অর্থাৎ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের আমলকে সংশোধন করেন না।জাবির ইবনে আবদিল্লাহ (রাঃ) বলেনঃ “আমি মসজিদে যিরারটি দেখেছি যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নির্দেশক্রমে যখন তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় তখন তার থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছিল।” ইবনে জুরাইজ (রঃ) বলেনঃ “আমাদের কাছে বর্ণনা করা হয়েছে যে, লোকেরা এক জায়গায় গর্ত খনন করে এবং সেখান থেকে তারা ধোঁয়া বের হতে দেখে।” কাতাদাও (রঃ) অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। খালাফ ইবনে ইয়াসীন আল কূফী (রঃ) বলেনঃ “আমি মুনাফিকদের ঐ মসজিদটি দেখেছি যার বর্ণনা আল্লাহ কুরআনে করেছেন, তাতে একটি ছিদ্র রয়েছে যার মধ্য দিয়ে ধূম্র বের হচ্ছে। সেটা আজ আবর্জনা ফেলার জায়গায় পরিণত হয়েছে।” ইবনে জারীর (রঃ) এটা বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তা'আলার উক্তি (আরবী) অর্থাৎ ঐ ইমারত যা তারা নির্মাণ করেছে, তা সর্বদা তাদের মনে খটকা সৃষ্টি করতে থাকবে। এর কারণে তাদের অন্তরে নিফাকের বীজ বপন করার কাজ চলতে থাকবে। যেমন গো-বৎস পূজারীদের অন্তরে ওর মহব্বত সৃষ্টি হয়েছিল।অর্থাৎ অবশ্যই যদি তাদের সেই অন্তরই ধ্বংস হয়ে যায় তবে তো কোন কথাই থাকে না। আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দাদের আমলগুলো সম্পর্কে পূর্ণ ওয়াকিফহাল এবং তিনি ভাল ও মন্দের প্রতিদান দেয়ার ব্যাপারে মহাজ্ঞানী ও বড় বিজ্ঞানময়।