৩২ নং আয়াতের তাফসীর:
আদম (আঃ)-এর পুত্র কাবীল-হাবীলকে হত্যা করার কারণে আল্লাহ তা‘আলা বানী ইসরাঈলের ওপর বিধান দিলেন যে, অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা অথবা জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করা সকল মানুষকে হত্যা করার শামিল। আর কাউকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করা সকল মানুষকে বাঁচানোর শামিল।
এ বিধান শুধু বানী ইসরাঈলের জন্য সীমাবদ্ধ নয় বরং আমাদের জন্যও প্রযোজ্য। সুলাইমান বিন আলী আররিবয়ী (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি হাসান বাসরীকে জিজ্ঞাসা করলাম: হে আবূ সাঈদ! এ আয়াতের বিধান বানী ইসরাঈলের মত আমাদের জন্যও কি প্রযোজ্য? তিনি বললেন: হ্যাঁ। সে সত্তার শপথ যিনি ছাড়া কোন মা‘বূদ নেই। এ বিধান যেমন বানী ইসরাঈলের জন্য ছিল তেমনি আমাদের জন্যও প্রাযোজ্য। বানী ইসরাঈলের রক্তের চেয়ে আমাদের রক্তের মর্যাদা কোনক্রমেই কম নয়। (ইবনে কাসীর, অত্র আয়াতের তাফসীর, তাবারী, ৬/১৩১)
ইসলাম মানবতার ধর্ম। এরূপ মানবতাপূর্ণ বিধান ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম নেই। তাই যারা ইসলামকে সেকেলে ধর্ম বলে বা ইসলামের ব্যাপারে আঙ্গুল তুলে কথা বলে তাদের ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব রয়েছে। অজ্ঞতা ও মূর্খতাবশত তারা এরূপ কথা বলে।
আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. অন্যায়ভাবে হত্যা করা বা ফাসাদ সৃষ্টির পরিণতি খুবই ভয়াবহ।
২. অধিকাংশরাই অপরাধে জড়িত হয়েছে তাদের নিকট প্রমাণাদি আসার পর।
৩. ইসলাম পরিপূর্ণভাবে মাবনাধিকার সংরক্ষণ করেছে।