৩১ নং আয়াতের তাফসীর:
যারা কাবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকবে তাদের ফযীলত বর্ণনা করা হচ্ছে যে, আল্লাহ তা‘আলা তাদের অন্যান্য সকল গুনাহ ও মন্দ কাজ মোচন করে দেবেন এবং সম্মানজনক স্থানে প্রবেশ করাবেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, এক জুমুআ থেকে আর এক জুমুআ ও এক রমাযান থেকে আর এক রমাযান এর মধ্যবর্তী গুনাহসমূহের কাফফারাস্বরূপ, তবে যদি কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে। (সহীহ মুসলিম হা: ২৩৩)
কবীরা তথা মহাপাপসমূহের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে মুফাসসিরগণ অনেক মতামত প্রদান করেছেন। সকল মতামতের সারাংশ নিয়ে এসেছেন ইমাম তাহাবী তাঁর আকিদা তাহাবীয়াতে। সেখানেও প্রায় ১-১৪টি সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন। সবচেয়ে উত্তম সংজ্ঞা হল;
(كُلُّ ذَنْبٍ مَا تَوَعَّدَ اللَّهُ عَلَيْهَ بِنَارٍ أَوْ عَذَابٍ أَوْ غَضَبٍ أَوْ لَعْنَةٍ)
প্রত্যেক ঐ সব অপরাধ যেগুলো করার কারণে আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নাম, শাস্তি, তাঁর ক্রোধ অথবা তাঁর লা’নতের ধমক দিয়েছেন। (আকীদা তাহাবীয়া)
কাবীরা গুনাহর সংখ্যা কত এ নিয়েও অনেক মতামত বিদ্যমান।
ইমাম যাহাবী (রহঃ) প্রণীত “কবীরা গুনাহ” কিতাবে সত্তরটির মত কবীরা গুনাহর বর্ণনা করেছেন। এ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে তাফসীর ইবনে কাসীরে।
আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. কবীরা গুনাহ থেকে দূরে থাকা ওয়াজিব এবং নেকীর কাজ।
২. কবীরা গুনাহ ক্ষমার জন্য তাওবাহ করা শর্ত।
৩. কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকলে আল্লাহ তা‘আলা সাগীরাহ গুনাহ এমনিতেই মাফ করে দেবেন।