অতঃপর আমি তার কাছে অহী (প্রত্যাদেশ) করলাম, তুমি আমার চোখের সামনে ও আমার অহী অনুযায়ী নৌযান নির্মাণ কর। অতঃপর যখন আমার আদেশ আসবে[১] ও উনুন উথলে উঠবে[২] তখন উঠিয়ে নিয়ো প্রত্যেক যুগল (জীবের) এক এক জোড়া[৩] এবং তোমার পরিবার পরিজনকে; তবে তাদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে পূর্ব-সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে তারা ব্যতীত।[৪] আর যারা সীমালংঘন করেছে তাদের সম্পর্কে তুমি আমাকে কিছু বলো না, তারা অবশ্যই ডুবে মরবে। [৫]
[১] অর্থাৎ যখন তাদের ধ্বংসের আদেশ এসে যাবে।
[২] تَنُّور (উনুন) এর ব্যাখ্যা সূরা হূদে করা হয়েছে। সঠিক কথা হল 'উনুন' বলতে আমাদের পরিচিত উনুন বা চুলো নয় যার উপর রান্না করা হয়; বরং এ থেকে পৃথিবীর পৃষ্ঠদেশ বুঝানো হয়েছে। কারণ, সারা পৃথিবী ঝরনায় পরিণত হয়ে গিয়েছিল এবং পৃথিবীর তলদেশ হতে ঝরনার ন্যায় পানি বের হয়েছিল। নূহ (আঃ)-কে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে যে, যখন মাটি হতে পানি বের হতে শুরু করবে তখন---।
[৩] অর্থাৎ, জীবজন্তু, গাছ-পালা হতে প্রত্যেকের এক একটি জোড়া (নর-মাদী) কিশ্তীতে তুলে নাও; যাতে সকলের বংশ বাকী থাকে। (যুগল জীবের এক এক জোড়া বলতে যেসব প্রাণী স্ত্রী-পুরুষের মিলনে বংশ বিস্তার করে এবং পানির মধ্যে বেঁচে থাকতে পারে না কেবল তাদেরকেই জাহাজে উঠানো হয়েছিল।)
[৪] অর্থাৎ, যাদের কুফরীর ও সীমালংঘনের ফলে ধ্বংসের ফায়সালা করা হয়েছে; যেমন নূহ (আঃ)-এর স্ত্রী ও তাঁর পুত্র।
[৫] অর্থাৎ, তুফানের আযাব যখন শুরু হবে, তখন ঐ যালেমদের কারো প্রতি দয়াপ্রদর্শনের কোন প্রয়োজন নেই। অতএব তুমি তাদের কারো জন্য আমার কাছে সুপারিশ করো না। কেননা, তাদের ডুবে মরার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে আছে।